বাবা সাহেব আপ্তে


 সুভাষিতম্

তরবোহপি হি জীবন্তি জীবন্তি মৃগপক্ষিণঃ।

সঃ জীবতি মনো যস্য মননেনোপজীবিতঃ।।

অর্থঃ তরুলতাও জীবনধারণ করে, পশুপক্ষীও জীবনধারণ করে, কিন্তু সে-ই প্রকৃতরূপে জীবিত যে মননের দ্বারা জীবিত থাকে।


শ্রী বাবাসাহেব আপ্তে। 

                            আজ জন্মদিবস। 

মহারাষ্ট্রের যবৎমলের এক দরিদ্র পরিবারে ২৮শে আগস্ট, ১৯০৩ সালে জন্মগ্রহণকারী উমাকান্ত কেশব আপ্তের প্রথম জীবন অনেক কষ্টে অতিবাহিত হয়েছে। ১৬ বছর বয়সে বাবার মৃত্যুর কারণে পরিবারের সকল দায়িত্ব তাঁর উপর এসে পড়ে।

ছাত্রজীবনে তিনি লোকমান্য তিলকের ব্যক্তিত্বে ব্যাপকভাবে প্রভাবিত হয়েছিলেন। একবার ভাল গঙ্গাধর তিলক ট্রেনে করে যাচ্ছিলেন। আপ্তেজী বিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ চাননি ছাত্ররা তাঁর সঙ্গে দেখা করুক - তাই তিনি বিদ্যালয়ের গেট বন্ধ করে রেখেছিলেন। স্কুলের সময় শেষ হয়ে গেলে উমাকান্ত চলে যেতে চাইলেও অধ্যক্ষ তাঁকে যেতে দেননি। পীড়াপীড়ি করায় তাঁকে লাঠি দিয়ে মারধর করা হয়।

ম্যাট্রিকুলেশনের পর বাড়ির অবস্থা দেখে কিছুদিন শিক্ষকতার কাজ করেন - একবার তিনি স্কুলে তিলক জয়ন্তী পালন করেছিলেন। এতে প্রিন্সিপ্যাল ​​প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ হন - আপ্তেজী পদত্যাগ করেন এবং নাগপুরে এসে একটি প্রেসে কাজ শুরু করেন। এই সময়েই রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের প্রতিষ্ঠাতা ডাঃ হেডগেওয়ারজীর সাথে তাঁর পরিচয় হয়। তারপর ধীরে ধীরে সঙ্ঘে আত্মনিয়োগ করেন আপ্তেজী।

বইয়ের প্রতি অনুরাগের কারণে ডঃ হেডগেওয়ার তাকে 'অক্ষর শত্রু' বলে ডাকতেন। আপ্তেজী নিজে হাতে বীর সাভারকরের নিষিদ্ধ বই 'দ্য ফ্রিডম স্ট্র্যাগল অফ 1857' টাইপ করে অনেক তরুণ-তরুণীকে পড়ার জন্য সরবরাহ করেছিলেন। তিনি অনেক জায়গায় কাজ করেছেন; তবে চাকরির পাশাপাশি বাকি সময়টা সঙ্ঘের কাজে ব্যয় করতেন।

তাঁকে সঙ্ঘের কাজে নাগপুরের বাইরেও যেতে হয়েছে - তাই তিনি চাকরি ছেড়ে দিয়ে সঙ্ঘের জন্য পুরো সময় কাজ শুরু করেন। এভাবে তিনি সঙ্ঘের প্রথম প্রচারক হন। পরবর্তীতে ডাক্তারজী তাঁকে দেশের অন্যান্য স্থানেও পাঠাতে শুরু করেন।

তাঁর অধ্যয়ন, কঠোর পরিশ্রম, পরিণো চিন্তাভাবনা এবং কথোপকথনের অনন্য শৈলীর কারণে ডাক্তারজী তাঁকে 'বাবাসাহেব' নাম দিয়েছিলেন। আধুনিক প্রেক্ষাপটে দশাবতারের মতো প্রাচীন কাহিনী বর্ণনা করার তাঁর কৌশল ছিল আশ্চর্যজনক। 

বাবাসাহেব আপ্তে ২৭শে জুলাই, ১৯৭২ সালে গুরুপূর্ণিমা তিথিতে সঙ্ঘে অনেক দায়িত্ব পালন করার পরে প্রয়াত হন।



0 Comments